পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে হোর্হে জেসুস যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো; এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে সিএনএনের পর্তুগিজ শাখা।
জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরেই পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়ে সৌদি আরবে ফেরেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে আগেভাগেই বেরিয়ে আল-নাসরে ফেরেন তিনি।
জানা গেছে, রোনালদোর সঙ্গে আগে করা কিছু সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে রাখা হয়নি। এ কারণেই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন সিআর সেভেন।
এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও রোনালদোকে ওয়ার্ম-আপ করতে পাঠিয়েছিলেন জেসুস। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামাননি পর্তুগালের এই কোচ।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে জেসুস দাবি করেন, রোনালদোর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। নিজের দিক থেকে তিনি কোনো ভুলও করেননি বলে মনে করেন পর্তুগালের কোচ।
তবে জেসুসের এই বক্তব্য ভালোভাবে নেননি রোনালদো।
এরপর ব্যক্তিগত বিমানে করে সৌদি আরবে ফেরেন পর্তুগিজ এই তারকা। পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পর্তুগাল জাতীয় দলের সতীর্থদের উদ্দেশে বিদায়ের বার্তাও দেন তিনি।
গত কয়েক দিনে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এবং জেসুস—দুই পক্ষই পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।
সিএনএনের পর্তুগিজ শাখার দাবি, জেসুস যতদিন পর্তুগালের জাতীয় দলের কোচ থাকবেন, ততদিন রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না।
পর্তুগালে এই অবস্থানকে অনেকে এমন এক কৌশল হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে রোনালদো পরোক্ষভাবে জেসুসকে কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন।
এখন নজর তাই পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। রোনালদো ও জেসুসের বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এর কী প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।