কুড়িগ্রামে বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের একটি জীবন্ত কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় ৫০ জনের গণস্বাক্ষরসহ ১২টি সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা বন বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা শিক্ষা অফিস, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বেলগাছা ইউনিয়নের বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি বড় কাঁঠাল গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে কর্তন করা গাছটি মাদ্রাসা মাঠে রেখে চলে যাওয়া হয়। বর্তমানে গাছটি সেখানেই পড়ে রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গাছটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার শাহ মো. নূরে আলম সিদ্দিকী কোনো সরকারি অনুমোদন, বন বিভাগের অনুমতি কিংবা মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন ছাড়াই গাছটি কাটার অনুমতি দেন। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গণস্বাক্ষরকৃত অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বন বিভাগের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল।
স্থানীয় রমজান আলী, নুর ইসলাম, আনিছুর, রাজু আহমেদ, আশরাফুল আলম, রুহুল আমিন, মহুবর রহমান, বাবু বসুনিয়া ও মোখলেছ বসুনিয়া বলেন, “মাদ্রাসা বন্ধের দিনে একটি বড় জীবন্ত কাঁঠাল গাছ কাটার খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। গাছটি নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে সেটি মাদ্রাসা মাঠে রেখে দেওয়া হয়। এর আগেও মাদ্রাসার চারটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব বিষয়ে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।”
কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়া (৪৫) বলেন, মাদ্রাসার সুপার আমার কাছে ১৩ হাজার টাকায় কাঁঠাল গাছটি বিক্রির বন্দোবস্ত করেছিলেন। তিনি ওই গাছ বিক্রি করে পাওয়া কাঠের বিনিময়ে আমার কাছ থেকে ইউক্যালিপটাস কাঠ নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার শাহ মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি মাহাবুর রহমানের অনুমতিক্রমে আমি গাছটি কর্তন করেছি। তবে বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে।
মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির জন্য স্থানীয়দের পরামর্শে গাছটি কর্তন করা হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। গাছটি থাকলে ভবন নির্মাণে অসুবিধা হতো।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মাদ্রাসা সুপারকে গাছ কর্তনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে তো সব তথ্য থাকে না। এডিসি (শিক্ষা) এর সঙ্গে কথা বলেন।
পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসাদুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।