চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে চয়ন (৪০) নামে এক চপ-পিঁয়াজু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার লাশ রেখে পালিয়ে যান অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালক। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহত চয়ন উপজেলার হারদী ইউনিয়নের হারদী কৃষি ক্লাবপাড়ার গদোর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হেলাল উদ্দীন (৪৫) একই ইউনিয়নের ওসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার ইয়ামিন হোসেনের জামাতা। তার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে হেলাল মালয়েশিয়ায় থাকাকালে তার মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে চয়নের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে হেলাল ও চয়নের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলেও তারা জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও সামনে এসেছে।
প্রায় ১০ দিন আগে হেলাল মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। তিনি এতদিন কুষ্টিয়ার মিরপুরের ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ওসমানপুরে ফিরে আসার পর বেলা ১১টার দিকে মুঠোফোনে চয়নকে তার বাড়িতে ডেকে নেন বলে অভিযোগ।
চয়নের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাড়িতে নেওয়ার পর তাকে আটকে মারধর করা হয়। পরে চয়নের ছেলে মারুফকে ফোন করে তার বাবার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে মারুফ ও তার দাদাকে সঙ্গে করে তিনটি স্ট্যাম্প কিনে নিয়ে আসতে বলা হয়।
দুপুরের দিকে মারুফ ও তার দাদা হেলালের বাড়িতে পৌঁছালে তাদের জানানো হয়, চয়ন আত্মহত্যা করে মারা গেছেন। পরে একটি ভ্যানে করে তার লাশ হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে লাশ রেখে ভ্যানচালক চলে যান।
চয়নের ছেলে মারুফ বলেন, আমার বাবাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হেলালের পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা আমি জানি না। যদি কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন থেকেও থাকে, আমরা তা পরিশোধ করতাম। কিন্তু এ জন্য তাকে কেন পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. মো. রুবায়েদ হাসান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই চয়নের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে । লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।