ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুক্তি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-বোনাস এবং ঘাস ও ভুট্টা চাষে পকেটের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে চরম প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. নাসিরুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার মদনধরী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালে তিনি ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে লজিস্টিক ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ওই কোম্পানির পরিচালক ও ‘আদিয়াত ফার্ম’-এর মালিক মো. ইউসুফ আলামিনের অনুরোধে তার গরুর খামারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী এবং খামার মালিকের পরামর্শ ও খরচের প্রতিশ্রুতিতে তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ঘাস ও ভুট্টা চাষ শুরু করেন।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেও খামার কর্তৃপক্ষ তার প্রাপ্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। বর্তমানে বেতন, বোনাস ও ছুটির টাকাসহ তার মোট ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া আলফাডাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জমি লিজ, শ্রমিক, বীজ ও যন্ত্রপাতির পেছনে তিনি নিজের পকেট থেকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। পরবর্তীতে ফার্ম কর্তৃপক্ষ সময়মতো ঘাস না নেওয়ায় জমি পরিষ্কার করতেই তার আরও ৩৩ লাখ টাকার অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শেই পুরো চাষাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল উল্লেখ করে নাসিরুজ্জামান দাবি করেন, পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে অভিযুক্ত ইউসুফ আলামিনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। উল্টো পাওনা টাকা দাবি করায় তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
বর্তমানে পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকিতে চরম দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান এই ভুক্তভোগী। নিজের কষ্টার্জিত বকেয়া বেতন-বোনাস ও বিনিয়োগের সমুদয় অর্থ উদ্ধারে তিনি স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আদিয়াত ফার্মের মালিক ইউসুফ আলামিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।