বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা তিনবার বেরোবির ফেরদৌস রহমান বদলগাছীতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়, উত্তরা কোল্ড স্টোরেজে কৃষকের পকেট কাটার অভিযোগ লিফট চালু থাকলেও ছয় তলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানো হয়েছে’ ক্রিস্টা পাইকের আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে আরেকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সিএনজি চলাচলের অনুমতির দাবিতে চালকদের সড়ক অবরোধ বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় রুয়েটের ১৫ শিক্ষক-গবেষক প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য শেকৃবির ৭ শিক্ষার্থী মনোনীত পাকুন্দিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের নতুন জোনাল অফিস উদ্বোধন রামেবিতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কাটা হলো উপাচার্যের কক্ষের তালা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলেই রেইনবো নেশন’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, রংধনু যেভাবে সাত রঙের মাধ্যমে বর্ণিল আলো ছড়ায়, তেমনি হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ বাংলাদেশের সৌন্দর্যের একেকটি রং। সব রং মিলেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা-৯ আসনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, অবস্থান ও পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক যেন তার ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অধিকার নির্বিঘ্নে ভোগ করতে পারেন—এই লক্ষ্যেই মুক্তিযোদ্ধারা লাখো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ বা কে খ্রিস্টান—এমন প্রশ্ন ছিল না।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে, ২০২৪-পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তথাকথিত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।

বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার দ্বিতীয় দফায় ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার পূর্ণ সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার দ্বিতীয় দফায় সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তা বা রেইনবো নেশনের কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সম্প্রীতিমূলক ও সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা—রেইনবো নেশন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ধর্মের নামে বিভেদ চাই না, জাতি-গোষ্ঠীর নামে বৈষম্যও চাই না। আমরা চাই ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাম্যের অধিকারভিত্তিক একটি বাংলাদেশ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে হাবিবুর রশিদ বলেন, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসবের এই প্রাক্কালে সনাতন ধর্মাবলম্বী সব ভাই-বোনকে আন্তরিক শুভকামনা জানাচ্ছি। ঐতিহ্যগতভাবে সবার সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে।

তবে উৎসবকে কেন্দ্র করে ‘পলাতক স্বৈরাচার ও তার দোসররা’ কোনো অপচেষ্টা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

হাবিবুর রশিদ বলেন, বিএনপি ও এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতায় আপনাদের উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

তিনি জানান, ঢাকা-৯ আসনের প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের পোশাকে নিরাপত্তায় সহযোগিতা করবেন।

পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা বিকল্প জেনারেটর ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা থাকবে।

পূজার ছুটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূজার ছুটি এক দিন বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় দেশবাসী কার্যত পাঁচ দিন ধারাবাহিক ছুটি উপভোগ করবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রতিবছর পূজামণ্ডপগুলোতে দেওয়া সরকারি অনুদানের পরিমাণ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সভায় বক্তারা জানান, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকায় এবার রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩০ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনুস মৃধা, মাসুদ চৌধুরী, কাজী ইয়াহিয়া বাবু, খ. ম. ওসমান গনি টুটুল, চৌধুরী ওয়াহিদুর রহমান চয়ন, সাঈদ উদ্দিন সুমন, কাজী মুনমুন প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা বাবু যদু চন্দ্র দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গুরু দাস।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102