চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের এক বাসিন্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করছেন ভুক্তভোগী ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন ওই ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাজারের পূর্ব মাথায় স্থানীয় নূর নবীর পাশের জমি ক্রয় করেন। শাহাদাত হোসেন জমির দখল বুঝে নেওয়ার দিন পাশের জমির মালিক নূর নবীকে জানাননি এবং তার অনুপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে শাহাদাত হোসেন নিজের জমির মালিকানা ও দখল নিতে গিয়ে নূর নবীর জমিতে সৃজনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেন।
নূর নবী অভিযোগ করে বলেন, শাহাদাত হোসেন ভূমি অফিসে চাকরি করার কারণে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একদিকে তার অনুপস্থিতিতে জমির সীমানা দখল নিয়েছেন, যা তার সীমানার মধ্যে এসে পড়েছে। অন্যদিকে, তার সীমানার মধ্যে থাকা সৃজনকৃত বেলজিয়াম গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি গত শনিবার কেটে বিনষ্ট করেছেন। এ সময় ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে শাহাদাত হোসেন ডিসি, ইউএনও ও এসিল্যান্ড তার লোক, তাই কোনো কিছু করতে পারবে না বলে হুমকি দিয়ে যান। তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তারা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।
জমির মাপজরিপকারী সার্ভেয়ার বোরহান উদ্দিন মোল্লা জানান, শাহাদাত হোসেনের জমির মাপজরিপের দিন নূর নবী উপস্থিত না থাকলেও তিনি যার কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন, তিনি উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাগ নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ করেছেন।
গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নূর নবী তার কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন।
অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, নূর নবী যে স্থানে গাছ কাটার কথা বলেছেন, সেটি তার সীমানার মধ্যে পড়েছে। মূলত তিনি তার আগে এই জমিটি ক্রয় করতে চেয়েছিলেন। তা না পেরে তার সঙ্গে বিরোধে জড়াচ্ছেন। তাছাড়া তিনি নিজে নূর নবীকে জমি মাপজরিপের দিনে উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু তিনি থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। যে গাছগুলো কাটার অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো তার জায়গার মধ্যে পড়েছে।