বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন

‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিক্ষোভ, ফের আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হন তারা।

কংগ্রেসের সূত্র জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের পুলিশ জোর করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে কংগ্রেস কর্মীরা একটি বাসের চাকা পাংচার করে দেন। এরপর রাহুল গান্ধীকে অন্য একটি বাসে তুলে বারাখাম্বা রোডের একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন মধ্য দিল্লির জনপথে সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে বৈঠক করেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। বৈঠকে ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে আন্দোলন আরও জোরদার করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বাসে করে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। তবে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

পুলিশ প্রথমে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন নেতাকে একটি বাসে তুলে নেয়। অন্য নেতাদের আটক করতে পুলিশ এগিয়ে গেলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে আবার সড়কে বসে পড়েন। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সড়কে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সড়কে শুয়ে পড়েন। পুলিশ তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বলেন, ‘এভাবে কি সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আচরণ করা হয়? এটি নজিরবিহীন। আমরা এখান থেকে নড়ব না।’

পরে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে বাসে তুলে নেয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করতে হলে আগে অনুমতি নিতে হয়। নির্ধারিত কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে নয়াদিল্লি জেলার উপকমিশনারের কাছে এ ধরনের কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়েই যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশের বক্তব্য।

এর আগে মঙ্গলবারও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছিল। সেদিন নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে যাওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় তারা আকাশবাণী ভবনের সামনে আকস্মিক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বুধবারের কর্মসূচির আগে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেখানে বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়নি। তাই নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে গিয়ে তারা আন্দোলন করবেন।

রাহুল বলেন, ‘আমাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমার দেশের বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন। মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন।’

এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে। ‘ভোট চুরি’র বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়েও কথা বলেন রাহুল গান্ধী। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৪৫টি এফআইআর রয়েছে। তার লক্ষ্য ১০০টি এফআইআর হওয়া।

রাহুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি এফআইআর রয়েছে। আমার লক্ষ্য ১০০টি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102