সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে বড় সুখবর কুড়িগ্রাম সিমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত ২ জন ভারতীয় নাগরিক চট্টগ্রামের সার কারখানায় আনসার-ট্রাকচালক সংঘর্ষ, আহত ২ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ, শতাধিক নেতাকর্মী আটক ইসরাইলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যাচ্ছে সেনা ও যুদ্ধবিমান কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা, হানিফসহ চার আ.লীগ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল ৩টি ঘর রোমান্টিক ফটোশুটে নজর কাঁড়লেন অপু বিশ্বাস-আদর আজাদ ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল পাঁচ বছর প্রেম করে বিয়ের ৪ বছরেই ভাঙল সংসার!

বিক্ষোভ-সহিংসতায় ফ্রান্সে বন্ধ হচ্ছে ৫০০ স্কুল

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল সোমবার একদিনের জন্য আংশিক কিংবা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে বন্ধ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সের অন্তত ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ কিংবা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ইতোমধ্যে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট এবং স্কুলগুলোর অবকাঠামোগত নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রাজধানী প্যারিসের বাইরে মনপেলিয়ে, নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের অনেক স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

এর আগে শুক্রবার ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা কার্যক্রম বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে এবং সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিক্ষোভের মধ্যে ‘উগ্র বামপন্থি’ কিছু কর্মী যুক্ত হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন জেফ্রে। তার দাবি, তারা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, চলমান সহিংসতায় শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতি ফ্রান্সে আগে দেখা যায়নি।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শুধু শুক্রবারের সহিংসতার ঘটনায় ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এএফপির হিসাবে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অন্যদিকে আন্দোলনের আয়োজকেরা মঙ্গলবারও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে ‘কংক্রিট কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

রোববার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার নতুন কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করা।

এ ছাড়া স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য প্রস্তাবিত ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি সম্পত্তির ক্ষতি করলে সেই ক্ষতির ব্যয় তার কাছ থেকেই আদায় করার বিধান রাখা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102