শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

‘হতাশ’ ট্রাম্প, নেবেন কঠিন সিদ্ধান্ত!

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চলতি সপ্তাহটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক—দুই দিক থেকেই কঠিন হয়ে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের মতপার্থক্য এবং কানাডা–ইইউ ঘনিষ্ঠতা—সব মিলিয়ে তার প্রশাসন নতুন চাপের মুখে পড়েছে।

মেইল-ইন ভোটে সুপ্রিম কোর্টের বাধা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট (মেইল-ইন ভোট) নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত নিয়মে রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত ভোটার তথ্য সরবরাহ এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে নির্দিষ্ট ধরনের খাম ও বারকোড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল।

তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আপাতত সেই উদ্যোগ স্থগিত করেছে। এর পর ট্রাম্প তার নিয়োগ দেওয়া বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ, নিল গোরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেটের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কেনেডি সেন্টার নিয়ে আইনি জটিলতা

ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টার সংস্কারে প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পরিকল্পনাও আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রশাসন কেন্দ্রটি প্রায় দুই বছর বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করলেও একজন ফেডারেল বিচারক জানতে চেয়েছেন, এটি আগের আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না।

এর আগে কেনেডি সেন্টারের ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও আদালতে আটকে যায়। বিচারক বলেন, এমন সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সুদের হার বাড়াল ফেড

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়িয়ে ৩.৭৫–৪.০০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটিই প্রথম সুদ বৃদ্ধি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার মতে, দেশের সুদের হার প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি থাকা উচিত। তবে ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও একটি সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে দলেই ভাঙন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা দলের ভেতরে নীতিগত বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যার মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছের কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে, দখলে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ পথ ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য রুট।

কানাডা–ইইউ ঘনিষ্ঠতায় ট্রাম্পের আপত্তি

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন।

ট্রাম্প এ উদ্যোগের সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন, এটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে ইউরোপের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে গুরুত্ব

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এসব ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেইল-ইন ভোট, অর্থনৈতিক নীতি ও ইরান যুদ্ধ—তিন ক্ষেত্রেই রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে মতের অমিল স্পষ্ট হচ্ছে।

তবে বর্তমান ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এর আগেও তিনি একাধিক রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় এবং কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলই তার প্রশাসনের রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত পরীক্ষা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102