যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী মধু পল্লীর চার দেয়ালে বন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ঠিকানা হলো খোলা আকাশের নিচে কখনো গাছতলায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটিকে জরাজীর্ণ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ। ভবন পরিত্যক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মেই বিকল্প কোনো অস্থায়ী শেড বা ভবনের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও দীর্ঘ এক বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বাধ্য হয়েই ক্ষুদ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গাছ তলায় কখনো খোলা আকাশের নিচে পাঠদান শুরু করেন শিক্ষকরা।
প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুননেছা বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর আমাদের কাছে শিশুদের নিরাপত্তাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়েই কোমলমতি শিশুদের নিয়ে কখনো গাছের তলায়, কখনো ফুটপাতে বা অন্যের ভবনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে রোদ-বৃষ্টির তীব্র ভোগান্তিতে পড়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং স্কুলে উপস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। অবিলম্বে একটি অস্থায়ী নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করা হলে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন তৈরি করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই প্রশাসনিক অনুমোদন পাব।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (খুলনা) আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি স্কুলটা মধুপল্লীর বাইরে স্থানান্তর করার।
আমি চাই, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আমরা সবাই মিলে যেন স্কুলটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি।