পটুয়াখালীর দুমকিতে গ্রাহকের জমাকৃত টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংক পিএলসির তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা রিনা (৪৮) বাদী হয়ে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির দুমকি শাখার অস্থায়ী কর্মচারী মো. হুমায়ুন কবির, একই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আবু হানিফ ও সাবেক অফিসার (ক্যাশ) মো. কামরুল ইসলাম।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বাদী রিনার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সংসারের খরচ বাঁচিয়ে জমানো টাকা নিরাপদে রাখার উদ্দেশ্যে তিনি সোনালী ব্যাংকের দুমকি শাখায় যান। সেখানে ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তারা তাকে স্থায়ী আমানত হিসাব খোলার পরামর্শ দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল তিনি ব্যাংকে ২ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা জমা দেন। এ সময় তাকে টাকা জমার রসিদ দেওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থায়ী আমানত হিসাব খোলার কথা বলে বিভিন্ন ফরম ও কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর নেন। একই সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হলেও মুনাফা না পেয়ে তিনি ব্যাংকে যোগাযোগ করেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, তার নামে কোনো স্থায়ী আমানত হিসাব খোলা হয়নি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ব্যাংকে গিয়ে বাদী জানতে পারেন, তার নামে চেক ইস্যু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান, তার নামে খোলা সঞ্চয়ী হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে তার স্বাক্ষর জাল করে চেক ইস্যু ও টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অথচ তিনি কোনো চেকের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করেননি।
মামলার সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল হিসাবটিতে ২ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা জমা হয়। পরবর্তী সময়ে ৩০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, ৬০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ওপর বিশ্বাস রেখে টাকা জমা দিলেও তারা সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার চেয়েও কোনো সমাধান পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংক পিএলসির দুমকি শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও টাকা জমার রসিদসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।