সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকাসহ দেশের ৩০ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা, প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্য ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা নিশ্চিত করতে বলা হয়।
নিত্যপণ্যের পাশাপাশি ফলের বাজারেও তদারকি করেছে অধিদপ্তর। ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
অভিযানে ভোক্তাদেরও সতর্ক করা হয়। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এলপি গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের ওজন, সিল ও দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেনার পর রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।
কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।