মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

অটোরিকশা চলাচলে শিগগিরই নীতিমালা: সড়কমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ বিষয়ে দ্রুত একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

রাজধানীর যানজট ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের কারণে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে রিকশা চলাচলের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালা কার্যকর হলে প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত চালকদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে চালকদের একটি অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু রাজধানীর সামগ্রিক স্বার্থে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কাউকে অযথা ক্ষতির মুখে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ঢাকা শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, লেকের খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থাও থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই লেক খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ বা ব্যাপকভাবে ডাম্পিং করা হলে রাজধানী অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এসব যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের নেতারা। পাশাপাশি রিকশার চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ব্যাটারিচালিত রিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিটের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মালিকদের রিকশা যাচাই করে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালানো হয়। ফলে প্রেস ক্লাব ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে কাকরাইল মোড়ে সদরঘাট-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘ভিক্টর ক্লাসিক গোল্ড সিটি’ বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতিতে পথচারীদেরও ছুটোছুটি করতে দেখা যায়।

এ ছাড়া আন্দোলনে অংশ না নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে সড়কে চলাচলের চেষ্টা করা কয়েকজন চালককে বিক্ষোভকারীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102