বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের দখলদারকে বৈধতা, দখল অব্যাহত

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত জায়গা নতুন করে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে। গত চার মাস ধরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ও প্রতিকার চাওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ক্লাবের পূর্ববর্তী অবৈধ দখল ও স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবেশবাদীরা।

এ অবস্থায় পার্কের নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের সচিত্র প্রমাণসহ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়েছে ‘মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন’। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, সরকারের উন্মুক্ত পার্ক ও মাঠ সংরক্ষণের নীতিগত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্কের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে দেওয়ায় রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক। বারবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের পূর্ববর্তী অবৈধ স্থাপনা ও দখলকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন এবং আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে রাজউক ‘ব্যবস্থাপনা চুক্তি’ করেছে। ওই চুক্তির বিভিন্ন ধারার অপব্যবহার করে পার্কের মাঠ ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে। এর ফলে একটি উন্মুক্ত নাগরিক পার্ক ক্রমেই একটি ক্লাবের বাণিজ্যিক উপার্জনের সম্পদে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, ক্লাবের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্কের উন্মুক্ত স্থান গ্রাস করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য হাঁটার বা নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, অর্থের বিনিময়ে মাঠ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় কেবল বিত্তবানরাই এটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্পষ্টতই জনস্বার্থ ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।

পরিবেশবাদীরা আরও জানান, হাইকোর্ট ২০২৪ সালে এক রিট মামলার রায়ে বিদ্যমান মাঠ ও পার্কে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করে ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে মাঠে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে পার্কের বিভিন্ন অংশ দখল করে নেয়। এর ধারাবাহিকতায় তৎকালীন মেয়রের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের একটি চুক্তি করা হয়েছিল। যদিও তীব্র প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে রাজউক পার্কটির দায়িত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা বন্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন না যেতেই রহস্যজনকভাবে আবার মাঠটি ক্লাবটির ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রাঙ্গণ নয়; এটি নগরবাসীর উন্মুক্ত নাগরিক সম্পদ। সরকারের পার্ক ও মাঠ সংরক্ষণের নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে পার্কটির উন্মুক্ত চরিত্র রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102