রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

১২ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের ইট, ভেস্তে যেতে পারে আইনমন্ত্রীর উদ্যোগ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের বাঁক সরলীকরণ প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ইট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্মাণকাজে অনিয়ম হলে সড়কটির স্থায়িত্ব ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের দিনরাতের পরিশ্রম ও উদ্যোগের সুফলও ভেস্তে যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের বাঁক সরলীকরণ প্রকল্পের জন্য পাঠানপাড়া, পাইকপাড়া, কুশবাড়িয়াসহ কয়েকটি স্থানে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফাজিলপুর মহিলা কলেজসংলগ্ন একটি পতিত জায়গায় নির্মাণকাজের বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী সড়কের বেড ও এজিং তৈরিতে প্রথম শ্রেণির ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে নিম্নমানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে কাজের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কিংবা সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে এমনটি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

সড়কটির বাঁক সরলীকরণ স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার সুফল পেতে হলে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা জরুরি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু প্রকল্পের স্থায়িত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, বরং এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

স্থানীয়রা প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন জানান, মেসার্স মইনুদ্দিন বাই নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। জমি অধিগ্রহণের ব্যয় ছাড়াও এ প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী জুন মাসের আগেই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। সব নির্মাণসামগ্রী ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে। অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের মাধ্যমে সড়কটির কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আইনমন্ত্রীর উদ্যোগে নেওয়া এ প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102