কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিরূপ আবহাওয়ায় পাতা কোঁকড়ানো রোগে দিশে হারা হয়ে পড়েছেন বর্ষাকালিন আগাম জাতের টমেটো চাষিরা। জমিতে আশাতীত ফলনে কৃষকেরা উৎসাহিত হলেও প্রচণ্ড খরতাপে ফলনসহ টমেটো গাঁছে দেখা দিয়েছে পাঁতা কোকড়ানো রোগ। রোগাক্রান্ত হয়ে একের পর এক গাছ শুকিয়ে মরে যাওয়াসহ ঝড়ে যাচ্ছে গাছের টমেটো। চাষীদের আশংকা লাভ তো দুরের কথা পুঁজিই উঠবে না। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি অফিসের সহয়তা চান স্থানীয় চাষিরা। বিরুপ আবহাওয়ার পাদুর্ভাব কমে গেলেই ঠিক হয়ে যাবে বলছেন উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম।
উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের ফসলি জমিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগাম জাতের টমেটো চাষ ছিল না বললেই চলে। গত দু বছর ধরে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলা থেকে ভৈরবে ২-১জন চাষি গ্রাফটিংয়ের বারি-৮ জাতের টমেটো চারা এনে আগাম টমেটো চাষ শুরু করে। এতে খরচের তুলনায় লাভ বেশী হওয়ায় অনেকেই এ চাষ শুরু করেন। মৌসুমের শরুতে বৃষ্টি পাত ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় জমিতে ভাল ফলন আসে। কিন্ত কয়েক দিনের অধিক তাপ মাত্রায় টমেটো ভর্তি সবুজ গাছের পাতা কোঁকড়ে গিয়ে একে একে গাছ শুকিয়ে মরে যেতে থাকায় চিন্তার ভাজ পড়ে কৃষকের মুখে। লাভ তো দূরে থাক খরচ উঠানো নিয়েই শঙ্কায় কৃষকায় পড়েছেন কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে গ্রাফটিং টমেটো চারা রোপন ও পরিচর্যায় খরছ হয় লক্ষাধিক টাকা। বর্ষাকালিন সময়ে বাজার দর ভালো থাকায় প্রতি বিঘা জমির টমেটো বিক্রি করা যায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। তাই খরচের দ্বিগুণ লাভের কারণে আগাম টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে চাষিরা।
ভুক্তভোগী স্থানীয় কৃষকরা বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এই বছর ও গ্রাফটিং টমেটো চাষ করেছি আমরা। গত দুই বছর ধরে বর্ষা কালিণ এই টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছি আমরা। এই বছর ভালো ফলন হয়েছে। টমেটো হারবেষ্টের সময় হঠাৎ করে গাছের পাতা কুকড়ে গিয়ে গাছ টমেটোসহ মরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা দিশে হারা পুঁজি উঠানো নিয়ে। আমরা চাই কৃষি অফিসার এসে আমাদের জমি স্বচোখে দেখে আমাদের পরামর্শ দিয়ে যাক। যাতে করে দ্রুত সময়ের মাঝে রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ঔষধ ব্যবহার করে বাকি গাছগুলোও যেন পাতা কোকড়ানো রোগ থেকে রক্ষা পায়। তাহলেও আমরা কিছুটা হলেও অন্তত পুঁজির টাকা উঠাতে পারব।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন অতিরিক্ত খরতাপে টমেটো গাঁছের এই পাতা কোঁকড়ানো রোগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বঠিক পরিচর্যায় এবং বিরুপ আবহাওয়ার এই পাদুর্ভাব কমে গেলেই পাতা কোকড়ানো রোগ কেটে যাবে।