শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

জবির সমাবর্তনে বাড়তি ফি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ও মূল সনদ বাবদ বাড়তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে সমাবর্তনে অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে ৬ হাজার টাকা। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডির জন্য ১ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৩ হাজার টাকা, সঙ্গে মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএর জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৪ হাজার টাকা, সঙ্গে ৪০০ টাকা মূল সনদ ফি। এমফিল ও পিএইচডির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা, সঙ্গে ৪০০ টাকা মূল সনদ ফি। আর সান্ধ্যকালীন সব প্রোগ্রামের জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা, সঙ্গে ৮০০ টাকা মূল সনদ ফি।

প্রথম সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ও মূল সনদ ফির মোট অর্থের ওপর ১ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছিল।

ফি তুলনা করে দেখা যায়, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের ২ হাজার টাকা এবং এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মূল সনদ ফিও ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফি অনেকের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাড়াতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য একসঙ্গে নিবন্ধন ফি, সনদ ফি ও অন্যান্য সম্ভাব্য সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করা কঠিন হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইয়ান হোসেন অপু বলেন, সমাবর্তন হবে এইটা খুশির সংবাদ,কিন্তু সমাবর্তন ফিস ৫/৬ হাজার, এইটা দুঃখজনক।

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সময়ে ৩৫০০ টাকা ছিল। এখন এত বেশি এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করা উচিত প্রশাসনের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সমাবর্তনকে সবার অংশগ্রহণের উপযোগী করতে ফি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও খরচের বিস্তারিত হিসাব শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, সমাবর্তনের ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়নি। একাডেমিক কাউন্সিলের সব সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য, চেয়ারম্যান ও ডিনরা সবাই মিলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছয় বছর আগে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্তমানে সবকিছুর দাম ও আয়োজনের খরচ বেড়েছে। একটি সমাবর্তন আয়োজন করতে এখন অনেক বেশি ব্যয় হয়। সবকিছু বিবেচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতেই ২ হাজার টাকা করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বা আপত্তি থাকতেই পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় বিবেচনায় ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদেরও ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করা উচিত।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 Asbd24.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102