চট্টগ্রাম রেঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ২৪ ঘণ্টার অভিযানের ফলাফল চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে এসব তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৯৪ জন, আগের মামলায় ৭০ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৫০ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তিনজন, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জন, পরোয়ানাভুক্ত ১৭৬ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত ১৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া মাদক মামলায় ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে একজন মাদক বহনকারী ও ৯৪ জন মাদকসেবী। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫২ জন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে মোট ১২ হাজার ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৪১টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে ৭ হাজার ৬৪৪ পিস ইয়াবা, ৩৮ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, ১৯৮ লিটার চোলাই মদ, ৪৯ বোতল বিদেশি মদ, দুই ক্যান বিয়ার ও ১০০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রামে চারজন, কক্সবাজারে দুজন, কুমিল্লায় দুজন, চাঁদপুরে একজন, নোয়াখালীতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে দুজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৫৭ জনকে মুচলেকায় অভিভাবক বা জিম্মাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৬০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৮১ জন, লক্ষ্মীপুরে ১২৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪১ জন, নোয়াখালীতে ৩৪ জন, রাঙামাটিতে ৩০ জন, কক্সবাজারে ১৮ জন, খাগড়াছড়িতে ১৭ জন, চাঁদপুরে ১০ জন এবং ফেনীতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।